গরম কমলে যোহরের নামায আদায় করাঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাঃ) বলেছেন, যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা তা কমে এলে (যোহরের) সালাত আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। (তার পর তিনি বলেন) জানান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আর এক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাকে দুইটি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দুইটি হল, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ড উত্তাপ এবং শীতকালে যে ঠাণ্ডা অনুভব করো তাই। [ বুখারীঃ ৫১০ ]
আবু হুরায়রা এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যেঃ রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যখন গরমের প্রচণ্ডতা বৃদ্ধি পায়, তখন গরম কমলে সালাত আদায় করবে। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ। [ বুখারীঃ ৫০৮ ]
কেয়ামতের দিন যে চোখ কাঁদবে নাঃ
হযরত বুরাইদা (রা) হতে বর্ণীত, রাসূল (সাঃ) আলী (রাঃ) কে বলেনঃ “হে আলী! দৃষ্টির উপর দৃষ্টি ফেলো না। হঠাত যে দৃষ্টি পড়ে ওটা তোমার জন্যে ক্ষমার্হ, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্যে ক্ষমার যোগ্য নয়। [এই হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ (র) বর্ণনা করেছেন]
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণীত, রাসূল (সা) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চোখই কাঁদবে, শুধুমাত্র ঐ চোখ কাঁদবে না যেই চোখ আল্লাহর হারামকৃত জিনিস না দেখে বন্ধ থেকেছে, আর ঐ চোখ যা আল্লাহ্র পথে জেগে থেকেছে এবং আল্লাহ্র ভয়ে কেঁদেছে, যদিও এ চোখের অশ্রু মাছির মাথার সমানও হয়।
হযরত আবূ উমামা (রা) হতে বর্ণীত, তিনি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা ছয়টি জিনিসের দায়িত্ব নাও তাহলে আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নিচ্ছি। ছটি জিনিস হলোঃ কথা বলার সময় মিথ্যা বলবেনা, আমানতের খিয়ানত করবেনা, ওয়াদা ভঙ্গ করবেনা, দৃষ্টি নিম্নমুখী রাখবে, হাতকে যুলুম করা হতে বাঁচিয়ে রাখবে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করবে। [এই হাদীসটি আবুল কাসেম আল বাগাভী (র) বর্ণনা করেছেন]
রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যাক্তি তার জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের (রক্ষার) দায়িত্ব নেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের দায়িত্ব নেবো। [এই হাদীসটি ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেছেন]
কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক হাদিসঃ
(১) হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (সাঃ) বলেনঃ যে ঘরে ছবি, কুকুর ও অপবিত্র লোক থাকে – সেখানে রহমতের ফেরেশতাগণ (নতুন রহমতসহ) প্রবেশ করেন না। [হাদীস নং-২২৭, কিতাবুত তাহারাত]
(২) মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তিনটি অভিসম্পাতযোগ্য কাজ থেকে দূরে থাকো; পানিতে থুথু ফেলা, যাতায়াতের পথে এবং ছায়াদার স্থানে মলত্যাগ করা। [হাদীস নং-২৬, কিতাবুত তাহারাত]
(৩) নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, তিন ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করিবে না -প্রতারক, কৃপণ এবং যে ব্যক্তি দান করিয়া দান গ্রহিতাকে খোটা দেয়। [মিশকাত শরীফ]
(৪) মহানবী (সাঃ) বলেছেন, তিনটি কারনে আরবীকে ভালবাসিবে। এক- আমি আরবী, দুই- আল-কুরআন আরবী এবং তিন- বেহেশতবাসীদের ভাষা আরবী। [বায়হাকী, মিশকাত]

